পৃষ্ঠাসমূহ

Adds For Help Me

২৫ আগস্ট, ২০১৭

জুম্মার দিনের আমাল[JUMMA]

জুম্মার দিন কি কাজ করলে বেশী নেকি হয়?
জুম্মার দিনের অন্যতম আমল. ...
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ
হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে
ব্যাক্তি জুম্মার দিন জানবাত
গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং
সালাত (নামায/নামাজ)-এর জন্য
আগমন করে সে যেন, একটি উট
কুরবানী করল। যে ব্যাক্তি দ্বিতীয়
পর্যায়ে আগমন করে সে যেন, একটি
গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে
যে আগমন করে সে যেন একটি শিং
বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ
পর্যায়ে আগমন করল সে যেন একটি
মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে
যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম
কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুতবা
প্রদানের জন্য বের হন তখন
ফিরিশতাগণ যিকর শোনার জন্য
হাজির হয়ে থাকেন।
( #সহীহ_বোখারী :-৮৩৭)
সুবহান আল্লাহ ...... 

২৩ আগস্ট, ২০১৭

জিলহজ্জ মাসের আমল

আসসালামু আলাইকুম
বিসমিল্লাহ-হির রাহ'মানীর রাহী'ম।
আস সালামু আ'লাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
(১) আজ মংগলবার ২৮-শে যিলক্বদ। আজকের দিন সহ এই মাসের আর মাত্র ২ বা ৩ দিন বাকি আছে। এই মাসের তিন দিনের রোযা যাদের এখনো বাকি আছে তারা মাস শেষ হওয়ার পূর্বেই পূরণ করে নিন।
(২) আগামী বৃহস্পতি কিংবা শুক্রবার থেকে যিলহজ্জ মাস শুরু হবে। যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত রমযানের শেষের দশদিনের মতো অনেক বেশি ফযীলতপূর্ণ। সুতরাং রমযানের মতোই এই দিনগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।
(৩) আমাদের পোস্টে কোন প্রশ্ন বা মন্তব্য করবেন না। 
_____________________________________
ই’লম : মানব জাতি শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণ
আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “যারা জানে, আর যারা জানে না, তারা কি কখনো সমান হতে পারে?” সুরা আয-যুমারঃ ৯।
আল্লাহ তাআ’লার সমস্ত সৃষ্ট জীবজগতের মাঝে মানুষ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ। সমস্ত মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন, যারা নবী ও রাসুল তাঁরা। আর সমস্ত নবী ও রাসুলদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন আমাদের নবী মুহা’ম্মাদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, সৃষ্টির মাঝে এই শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য কিসের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত?
.
এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছেঃ ই’লম বা দ্বীনের জ্ঞান। 
আমরা যদি মানব জাতির সৃষ্টির সূচনার দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআ’লা যখন আদম আ’লাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা ফেরেশতাদের কাছে ব্যক্ত করেছিলেন, তখন ফেরেশতারা বলেছিলো, “(আয় আল্লাহ)! আপনি কি এমন কোন জাতি সৃষ্টি করবেন, যারা পৃথিবীতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করবে এবং অন্যায় রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরাই তো প্রতিনিয়ত আপনার প্রশংসা করছি এবং আপনার পবিত্র সত্ত্বার যিকির (স্মরণ) করছি।” সুরা আল-বাক্বারাহঃ ৩০। 
ফেরেশতাদের এই কথা বলার কারণ হচ্ছে, তাঁরা মনে করেছিলো আল্লাহর ইবাদতকারী বান্দা হিসেবে তারাই বুঝি শ্রেষ্ঠ। তখন আল্লাহ তাআ’লা বলেছিলেন, “নিঃসন্দেহে আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।”
যাই হোক, ফেরেশতা ও জিন জাতির তুলনায় মানব জাতি যে শ্রেষ্ঠ, সেটা সবার সামনে প্রমান করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআ’লা আদম আ’লাইহিস সালামকে সমস্ত জিনিসের নাম শিখিয়ে দিয়েছিলেন, অর্থাৎ তাঁকে ‘ইলম’ দান করেছিলেন। আর তখন ফেরেশতাদের সামনে সেই সমস্ত জিনিসগুলো উপস্থাপন করে তাদেরকে সেই জিনিসগুলোর নাম বলে দিতে বললেন। যেহেতু ফেরেশতারা সেইগুলোর নাম জানতোনা, সেইজন্য তারা একথা বলে নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করেছিলেনঃ “(হে আল্লাহ!) তুমি পবিত্র! আমরাতো কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছ (সেইগুলো ছাড়া)। আর নিশ্চয় আপনি প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।” সুরা আল-বাক্বারাহঃ ৩২।
.
ফেরেশতারা যখন সেই জিনিসগুলোর নাম বলতে অক্ষম হলো, তখন আল্লাহ তাআ’লা আদম আ’লাইহিস সালামকে সেইগুলোর নাম বলে দিতে বললেন, “তিনি (আল্লাহ) বললেন, হে আদম! ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসমস্ত জিনিসের নাম। তারপর যখন তিনি (আদম) বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি (আল্লাহ) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে (ফেরেশতাদেরকে) বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি?”
একথার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, এটা প্রমান করে দেওয়া যে, মানুষ হিসেবে যেই গুণাবলী ও ইলম দিয়ে আল্লাহ তাআ’লা আদম আ’লাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছিলেন, তার কারণে ফেরেশতাদের চাইতে আদম উত্তম, এটা বুঝিয়ে দেওয়া। একথা প্রমান করে দেওয়ার পর, আল্লাহ তাআ’লা ফেরেশতাদের এবং ইবলিসকে আদেশ করে বলেন, তোমরা সবাই আদমকে (সম্মান সূচক) সিজদাহ কর। 
.
মানুষের মাঝে সম্পদ, সৌন্দর্য, ক্ষমতা, বংশ বা জাতি দ্বারা মর্যাদা নির্ধারিত হয়না, বরং আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি তত বেশি সম্মানিত যে যত বেশি ‘মুত্তাক্বী’ বা আল্লাহভীরু। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্মানিত, যে বেশি মুত্তাক্বী।” সুরা আল-হুজুরাতঃ ১৩।
অনেকে মনে করেন, শুধুমাত্র কুরআন ও হাদীস জানা বা মুখস্থ করার নাম হচ্ছে জ্ঞান, এটা ঠিক নয়। বরং, কুরআন ও হাদীস জানা, তার উপর আমল করা এবং সর্বোপরি, ‘তাক্বওয়া’ বা আল্লাহকে ভয় করে চলার নাম হচ্ছে ই’লম। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধুমাত্র জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে থাকে।” সুরা ফাতিরঃ ২৮। 
আল্লাহ তাআ’লা আরো বলেছেন, “যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় অনেক উঁচু করবেন।” সুরা মুজাদালাঃ ১১।
এই আয়াতগুলো দ্বারা এটাই প্রমানিত হয়, ‘ইলম’ দ্বারাই মানুষের তাক্বওয়া অর্জিত হয়, আর তাক্বওয়ার উপর নির্ভর করেই মানুষ আল্লাহর কাছে সম্মানিত হয়। 
.
এতো গেলো কুরআন থেকে প্রমান যে, মানুষের ই’লম হচ্ছে তার শ্রেষ্ঠত্বের কারণ। এবার হাদীসে থেকে ই’লমের ফযীলত নিয়ে কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা হলো।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচাইতে উত্তম, যে নিজে কুরআন শিখে এবং অন্যদেরকে শিক্ষা দেয়।” সহীহ বুখারীঃ ৫০২৭।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “একজন আলেমের মর্যাদা একজন আবেদের (অনেক ইবাদতকারী ব্যক্তির) উপরে ঠিক সেইরূপ, যেরূপ আমার মর্যাদা তোমাদের উপর।” সুনানে তিরমিযী। 
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতারা, আসমান-জমিনের সকল বাসিন্দা, এমনকি গর্তের মধ্যে পিঁপড়ে এবং (পানির মধ্যে) মাছ পর্যন্ত মানুষের মাঝে যারা অন্যদেরকে ই’লম শিক্ষা দেয়, তাদের জন্য মঙ্গল কামনা ও নেক দুয়া করতে থাকে।” তিরমিযীঃ ২৬৮৫, দারেমীঃ ২৮৯, হাদীসটি হাসান। 
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “যে ব্যক্তি ই’লম (কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান) অর্জনের জন্য কোন রাস্তা অতিক্রম করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের রাস্তাসমূহের মধ্যে একটি রাস্তা অতিক্রম করান। আর ফেরেশতারা তালেবে-ইলম বা জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেন এবং আলিমের জন্য আসমান ও যমীনের সব কিছুই ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি পানিতে বসবাসকারী মাছও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আবিদের উপর আলিমের ফযীলত এরূপ, যেরূপ পূর্ণিমার রাতে চাঁদের ফযীলত সমস্ত তারকারাজির উপর। আর আলিমগণ হচ্ছেন, নবীদের ওয়ারিস বা উত্তরাধিকারী, এবং নবীগণ দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) ও দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) মীরাস হিসাবে রেখে যান না, বরং তাঁরা রেখে যান ইলম। কাজেই, যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করলো, সে প্রচুর সম্পদের মালিক হলো।” আবু দাউদঃ ৩৬৪১, দারেমীঃ ৩৪২, হাদীসটি সহীহ, শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ। 
.
ইলম অর্জন করা বা দ্বীন শিক্ষা করা আমাদের সকলের জন্য ফরয দায়িত্ব। কুরআনের প্রথম ওয়াহীই ছিলো “ইক্বরা”, অর্থ তুমি পড়ো! জিব্রাঈল আ’লাইহিস সালাম যখন হেরা গুহায় সাদা একটা রুমালে লেখা সর্বপ্রথম পাঁচটি আয়াত ওয়াহী হিসেবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এসেছিলেন, তার প্রথম কথাই ছিলো, “ইক্বরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক্ব”, “পড়ো তোমার পালনকর্তার নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” সুরা আল-আলাক্বঃ ১।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “(দ্বীনের) জ্ঞান অর্জন করা করা প্রত্যেক মুসলমান (নারী ও পুরুষের) জন্য ফরয।” ইবনু মাজাহঃ ২২৪।
ইমাম সুফিয়ান সাওরী রাহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহকে রাজী-খুশি করার উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করার চাইতে উত্তম কোন ইবাদত আমাদের জানা নেই।” সিয়ার আ’লাম আন-নুবালাঃ ৭/২৪৪।
ই’লমের মর্যাদা সম্পর্কে ইয়েমেনের প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন, শায়খ মুক্ববিল বিন হাদী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ২০০১) বলেন, “ই’লমের বিষয়টা কতইনা আশ্চর্যজনক! ইলমের মর্যাদা স্বর্ণ, রৌপ্য, সুন্দরী নারী, রাজত্বের চাইতেও উত্তম।”
শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসায়মিন রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু ২০০১) বলেন, “দ্বীন শিক্ষা করা এক প্রকার জিহাদ, এ কারণে তালিবুল ই’লম (দ্বীন শিক্ষার্থীদেরকে) যাকাত দেওয়া যায়।”
.
আসুন, আমরা আমাদের দ্বীন শিক্ষা করি, এর দ্বারা নিজেরা উপকৃত হই এবং এর দ্বারা অন্যদেরকেও আলোকিত করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তোওফিক দান করুন (আমিন)। 

৪ জুলাই, ২০১৭

ছয়টি রোজা এক বছর রোজার সোয়াব

হযরত আবু আইউব রাঃ থেকে বর্ণিত । রাসূসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখলো, তারপর এর পরপরই শাওয়ালের (Saoal) ছয়টি রোজা রাখলো সে যেন এক বছর রোজা রখলো । ( মুসলিম, রিয়াযুষসলেহীন ১২৫৪)
এই মাস হল শওয়াল মাস তাই আমরাএই মাসে ছয়টি রোজা রাখবো ইনশ-আল্লাহ।
আল্লহ যেন আমাদের সকলকে এ সোয়াব অর্জন করার তৈাফিক দেন আমিন ।

২৭ এপ্রিল, ২০১৭

Islamic golpo( ইসলামিক গল্প ) রাশিয়ায় যখন কুরআন নিষিদ্ধ ছিল!!

Islamic golpo( ইসলামিক গল্প ) 

রাশিয়ায় ( Russia ) যখন কুরআন (Al Quran )নিষিদ্ধ ছিল!!
  

১৯৭৩ সাল,রাশিয়ার (Russia) রাজধানী মস্কো,
একটি মুসলিম দেশ থেকে একজন মুসলমান সেখানে ট্রেনিংয়ের উদ্দেশ্যে যান
তিনি বলেন, জুমার দিন আমি বন্ধুদেরকে বললাম,
চলো জুমার নামাজ পড়ে আসি।তারা বললো এখানের মসজিদ(Mosque) গুলোকে গুদাম ঘর বানানো হয়েছে এবং দুই একটি মসজিদকে রাজনীতির স্থান করা হয়েছে
এই শহরে শুধুমাত্র দু'টি মসজিদ আছে, যা কখনও খোলা হয় আবার বন্ধ করে রাখা হয়
আমাকে সেখানের ঠিকানা বলে দাও
ঠিকানা নেওয়ার পর মসজিদের কাছে গিয়ে দেখি মসজিদ বন্ধ।পার্শ্ববর্তী এক লোকের কাছে চাবি ছিল
সে আমাকে বললো মসজিদ আমি খুলে দিতে পারি, তবে আপনার কোন ক্ষতি হলে এর দায়িত্ব আমার না!
আমি বললাম দেখুন জনাব!
আমি আমার দেশেও মুসলমান ছিলাম রাশিয়ায়ও মুসলমান আছি
সেখানে নামাজ পড়তাম।
এখানেও নামাজ পড়বো
এরপর মসজিদ খুলে দেখলাম ভিতরের অবস্থা খুব খারাপ
আমি দ্রুত মসজিদ পরিস্কার করে উচ্চস্বরে আযান দিলাম।আযানের শব্দ শুনে শিশু, বৃদ্ধ, নারী পুরুষ মসজিদের গেটে জমা হয়েছে
কে এই ব্যক্তি যে মৃত্যুর আওয়াজ করেছে?
কিন্তু কেউ মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করলো না।যেহেতু শুধুমাত্র এক ব্যক্তি থাকলে জুমার নামাজ পড়া যায় না তাই আমি জোহরের নামাজ পড়লাম
তারপর মসজিদ থেকে বের হয়ে আসলাম।তখন দেখলাম সকলে আমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যেন আমি এইমাত্র বিশ্বে নতুন কোন জিনিস আবিষ্কার করে তাদের কাছে এসেছি
এক বাচ্চা এসে আমার হাত ধরে বললো,
চলুন না আমাদের বাসায় গিয়ে চা খাবেন!
তার কাককুতি মিনতি দেখে আমি আর
না করতে পারলাম না
বাসায় গিয়ে দেখলাম অনেক সুস্বাদু খাবার।
আমি তা খাওয়ার পর চা খেলাম
এরপর পাশের এক বাচ্চাকে বললাম তুমি কোরআন পড়তে পারো? সে বললো পারি
আমি আমার পকেট থেকে কুরআন শরীফ বের করে খুলে এক জায়গায় আংগুল রেখে সেখান থেকে তাকে পড়তে বললাম
তখন সে একবার কুরআনের দিকে একবার আমার দিকে একবার তার পিতা মাতার দিকে আরেকবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে।
.
আমি বললাম বাবা! এখান থেকে পড়ো?
ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা...... সংগে সংগে সে আমার দিকে তাকিয়ে পড়তে লাগলো।
সে পড়ছে আর পড়ছে।
আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম যে
দেখে পড়তে পারেনা।
অথচ মুখস্থ পড়েই যাচ্ছে
আমি এর কারণ তার পিতা মাতার
কাছে জিজ্ঞেস করলাম
তারা বললো, আসলে আমাদের এখানে কারো ঘরে কুরআন নেই।কারো ঘরে যদি কুরআনের কোন আয়াতের টুকরো পাওয়া যেত, তাহলে পুরা পরিবারকে ফাঁসিতে ঝুলানো হত
তাহলে কিভাবে কুরআন মুখস্থ করেছে? আমাদের এখানে কিছু হাফেজ আছে
তাদের মধ্যে কেউ দরজি,কেউ দোকানদার, কেউ কৃষক।আমরা কাজের কথা বলে তাদের কাছে আমাদের বাচ্চাদেরকে পাঠিয়ে দিতাম
তারা মৌখিকভাবে সুরা ফাতিহা থেকে নাস পর্যন্ত পড়ে শুনাতো।বাচ্চারা তাই শুনে শুনে এক সময় পুরো কোরআনের হাফেজ হয়ে যেত
আমাদের কারো কাছে যেহেতু কুরআন শরীফ নেই আর তারা কখনো কুরআন শরীফ দেখে পড়েনি,
জন্য তারা কুরআন শরীফ দেখে পড়তে পারে না।তবে এই এলাকায় যত বাচ্চা দেখছেন, সকলেই হাফেজ
আমি সেদিন কুরআনের একটি নয়,
বরং কয়েক হাজার মুজিযা দেখলাম
যে সমাজে কোরআন রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সে সমাজের প্রতিটি শিশু, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষের অন্তরে মুখস্থরুপে কুরআন সংরক্ষিত রয়েছে
আমি যখন বাইরে বের হলাম, সেখানে কয়েকশ বাচ্চাকে দেখলাম
তাদের কাছ থেকে কুরআন শুনতে চাইলাম।সকলে আমাকে কুরআন তেলাওয়াত করে শুনালো
আমি বললাম, হে নাস্তিক, কাফের, মুশরেকরা!
তোমরা কুরআন রাখার ব্যাপারে তো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছো
কিন্তু যে কুরআন মুসলমানদের অন্তরে আছে তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারোনি
আর তখন আমার কুরআনের এই আয়াতটি মনে পড়ে গেল 'নিশ্চয় আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং নিশ্চয় আমিই একে সংরক্ষণ করবো'!!
আল্লাহ্ সুবহান'ওয়া তা'লা সবাইকে দ্বীনের পথে অবিচল পথ চলার তাওফিক দান করুন....!